বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে এখনো টিকে আছে ‘টেবিল ম্যানার’

0

চায়ের কাপে শব্দ হলেই এক পয়েন্ট মাইনাস; কাঁটাচামচে গাজরের টুকরা বেশি উঠলে বাদ আরেক পয়েন্ট। সরকারি কর্মকর্তাদের ‘শিষ্টাচার শেখানোর’ ভিক্টোরিয়ান যুগের এই রীতি বাংলাদেশে এখনো টিকে আছে। বিশেষ এই নিয়ম নিয়ে বিশ্বখ্যাত সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট তাদের জুন মাসের সংস্করণে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনিয়র সরকারি  কর্মকর্তা হতে গেলে শিষ্টাচারের এই পাঠ নেয়া বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানেও এখনো বাধ্যতামূলক। নিয়মের ক্ষেত্রে পাকিস্তানে অবশ্য কিছুটা শিথিলতা এখন এসেছে।

মেহবুব নামের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতের সরকারি কর্মকর্তা হতে গেলে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) ছয় মাস অবশ্যই ছুরি এবং কাটা চামচ দিয়ে খাওয়া শিখতে হয়।

সতর্ক একজন প্রশিক্ষক সবসময় নজর রাখেন। হাত দিয়ে খেলেই দেয়া হয় ‘শাস্তি’! এই নিয়ম শুধু বাংলাদেশ-পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশেই আছে।

কর্মকর্তারা বিষয়টি মেনে নিলেও নিয়মের সঙ্গে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। মেহবুবের কথায় তেমনটিই বোঝা গেল। ইকোনমিস্টকে তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ ভাবধারা কাটিয়ে শতভাগ বাঙালি হতে বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসকে আরও ১০০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।’

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনের অনুশীর্ষে (সাবহেড) গোটা বিষয়টিকে একটি ইংরেজি প্রবাদ দিয়ে একবাক্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। উইলিয়াম হরম্যানের বিখ্যাত উক্তি ‘ম্যানারাস মেকথ ম্যান’ অনুসরণে লেখা হয়েছে, ‘ম্যানারাস মেকথ ডিসট্রিক্ট কমিশনারস।’

বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ২০০৪-০৫ সালের দিকে কাজ করা সাবেক এক কর্মকর্তার কাছে এই নিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরকে হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এগুলো করা হয়। গোটা বিষয়টিকে ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়। আরও অনেক ধরনের প্রশিক্ষণ আছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘একজন কো-অর্ডিনেটর সব সময় কর্মকর্তাদের ওপর নজর রাখেন। তিনি রুমে কী করছেন, কীভাবে খাচ্ছেন সেসব নোট করেন। এভাবে মার্কিং করে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয়সহ মোট ১৫ জনকে নির্বাচন করে বিদেশ সফরে পাঠানো হয়।’

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে