সন্দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে বেড়িবাঁধের কাজ অসম্পন্ন ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি!

0

ইলিয়াস কামাল বাবু,

পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিনে মোট ৭ টি প্যাকেজে চলমান সন্দ্বীপের মগধরা,সারিকাইত ও রহমতপুর ইউনিয়নের ৯. ৮০ কিলোমিটার সিসি ব্লক বেড়িবাঁধের কাজ ও ১.২ কিলোমিটার মাটির বেড়ি্াঁধের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়ায় চলতি বর্ষায় ঝঁকিমুক্ত থাকতে পারছে না সন্দ্বীপ। গত ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় ১৯৭ কোটি ৪ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকার বরাদ্ধ অনুমোদন দেয়া হয়, চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার পোল্ডার নং-৭২ এর ভাঙ্গন প্রবন এলাকায় স্লোপ প্রতিরক্ষা (সী-ডাইক) কাজের মাধ্যমে পূনর্বাসন প্রকল্পের জন্য। সে অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কার্যাদেশ দেয়া হয় এবং নিয়োগ প্রাপ্ত ঠিকাদারগন ১৯ ডিসেম্বর ‘ ২০১৮ থেকে কাজ শুরু করেন,যা সমাপ্ত হওয়ার কথা ৩১ মার্চ’২০২০ সালের শুকনো মৌসুমের মধ্যেই।

কিন্তু করোনা সহ নানা অজুহাতে সে সময় পার হয়ে বর্ষাকাল চলে এসেছে। অথচ বেড়িবাঁধের কাজ অর্ধেকও এখনো শেষ হয়নি। এ দিকে বর্ষাকাল চলে আসায় সন্দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাগর তীরবর্তী উপকূলীয় এলাকার বিশেষ করে রহমতপুর,সারিকাইত ও মগধরার মানুষের মাঝে শংকা তৈরী হয়েছে। তাদের মতে জুন- জুলাই-আগস্ট- সেপ্টেম্বর ভরা বর্ষা মৌসুম এ সময়ে মাটির কাজ করা কস্টসাধ্য। ফলে অসম্পূর্ণ কাজের খেসারত দিতে হতে পারে দ্বীপবাসী কে। এ ব্যাপারে কথা হয় বিশ্বাস বিল্ডার্সের প্রকল্প ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হাফিজুর রহমানের সাথে,তিনি এ প্রতিবেদক কে বলেন- চলতি বছরের মার্চেই কাজ শেষ হয়ে যেতো, যদি করোনা পরিস্থিতির সৃষ্টি না হতো। তারা বর্ষার কারনে রহমতপুরের ১.২ কিলোমিটারের সিসি ব্লক বেড়িবাঁধের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানের অনুমোদন চাইবেন। এ প্রসঙ্গে কথা হয় সন্দ্বীপে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসও হেডকোয়ার্টার্স আরিফুল ইসলামের সঙ্গে,তিনি জানান- মগধরার কোরালিয়ায় বেড়িবাঁধের মাটি ভরাটের কাজ প্রায় শেষ হয়ে এলেও ছোঁয়াখালীতে আংশিক বাকী আছে। আর কোরালিয়ায় প্রায় ১৮০০ মিটার সিসি ব্লক বসানোর কাজ শেষ হলেও ছোঁয়াখালীতে শুরুই হয়নি। এ সাইডে ঠিকাদারী কাজ পেয়েছেন- বিশ্বাস বিল্ডার্স ৩.০৬ কি.মি,আনোয়ার ল্যান্ড ২.০৪ কি.মি। এ দিকে সারিকাইতের সওদাগরহাট, বাংলাবাজার এলাকার ১.০২ কি.মি বেড়িবাঁধ তৈরীর কাজটি করছে ডলি কনস্ট্রাকশন,এখানেও মাটি ভরাটের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি, স্থানীয় ভাবে এ কাজের দেখভাল ফিরোজ কন্ট্রাকটর করছেন বলেও জানালেন এসও আরিফ।

সারিকাইত ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম পনির এ প্রতিবেদক কে বললেন- বর্ষা এসে গেছে, যদি বেড়ীর কাজ সম্পূর্ণ না হয় তা হলে বিশেষ করে সারিকাইতের ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ড এলাকার অসম্পূর্ণ বেড়ী সহায় সম্পদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই কথা বললেন রহমতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাস্টার ইলিয়াছ খান,তিনি এ প্রতিবেদক কে বলেন- রহমতপুরের দক্ষিনে অর্ধেক সীমানায় রয়েছে পুরোনো বেড়ী,উত্তরের বাকী অংশে নির্মিত হয়েছে নতুন বেড়ী যাতে সিসি ব্লক বসছে। ভরা বর্ষার জোয়ার-জলোচ্ছ্বাসের চাপ পুরোনো বেড়ী কতটুকুন সইতে পারবে তা নিয়ে তিনি সন্ধিহান। যদি পুরোনো বেড়ী উপচে বা ভেঙ্গে পানি ভিতরে প্রবেশ করে তাহলে জলাবদ্ধতা সহ নানা ক্ষয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে এলাকাবাসী কে। আর কোনো অযুহাত নয়, প্রকল্পের উদ্দেশ্য অনুযায়ী প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও ঝড় জলোচ্ছ্বাসের কবল হতে প্রকল্প এলাকা সংরক্ষন, বন্যা প্রতিরোধ ও লবনাক্ত পানির প্রবেশ রোধ কল্পে সন্দ্বীপ এর ৭২ নং পোল্ডারের বেড়ীবাঁধের কাজ অতি দ্রুত শেষ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর জোর তাগাদায় কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকদারগন সম্পন্ন করবেন দ্বীপবাসী এই প্রত্যাশাই করে।

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে